এআই সারাচ্ছে খেলোয়াড়দের চোট


Buriganga News প্রকাশের সময় : মার্চ ২৯, ২০২৪, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন /
এআই সারাচ্ছে খেলোয়াড়দের চোট

বুড়িগঙ্গা নিউজ ডেস্ক : বিশ্বের শীর্ষ ফুটবলারদের শরীরে চোট খুঁজতে যে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হতো, তাই এখন কাজে লাগছে সাধারণ খেলোয়াড়দের হাঁটু বা পিঠের ব্যথা সারাতে৷ স্পোর্টস মেডিসিনের পরীক্ষাগারে এক বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স অ্যানালিসিস পরীক্ষা চলছে৷ পরীক্ষকের ইশারায় হাওয়ায় লাফ দিয়ে এক পায়ে এসে নামতে হবে একটি নির্দিষ্ট বাক্সের ভেতরের জায়গাতেই৷

পরীক্ষকের ভূমিকায় ড. হাউকে ডেউইটৎজ। আরো একবার দরকার! ১৬ বছর বয়সি এই খেলোয়াড় লাফাতে থাকে, শরীরে ছোট বিড বা পুঁতি, অন্যান্য মার্কার ও ইলেকট্রোড নিয়ে, যা তার পেশির পরীক্ষা করে৷ কয়েক মাস ধরে ডান হাঁটুর ব্যথা ভোগাচ্ছে এই খেলোয়াড়কে৷ তাই সে আজ এই ল্যাবে৷ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরীক্ষানিরীক্ষা শেষ হবার পর, খেলোয়াড়দের হাড় বিশেষজ্ঞের রিপোর্ট প্রস্তুত৷ হাঁটুর মধ্যে থাকা পাটেলার টেন্ডন কেন আঘাতপ্রাপ্ত, এই পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে তার কারণ খোঁজার চেষ্টা করছেন ড. ডেউইটৎজ৷ কেন অজান্তেই হাঁটু একদিকে হেলে যায়? পেশিগুলি কি ঠিকঠাক ভাবে শরীরের গতি কমাতে পারছে? হাড়ের সন্ধিস্থলে বা জয়েন্টে এর কেমন প্রভাব পড়ছে? বায়োমেকানিক্যাল বিশ্লেষণ এর উত্তর দিতে পারবে৷

ডেউইটৎজ বলেন, আগে থেকে প্রিভেন্টিভ কেয়ার নিতে খুব বেশি খেলোয়াড়রা আসেন না আমাদের কাছে৷ তাতে সমস্যা আগেই ঠেকানো সম্ভব, বলে মনে করেন তিনি৷ বেশিরভাগই আসেন কোন অপারেশন হবার বা চোট লাগার পর, যেমন যে সব চোট ঘন ঘন লাগে, ফাইবার ছিঁড়ে যাওয়া বা উরুর পেশিতে টান পড়া৷ নতুন ধরনের ব্যথা বা যন্ত্রণা ছাড়া খেলোয়াড়দের সমস্যাও আর পাঁচটা লোকের মতোই, যেমন টেন্ডনের ব্যথা, পেশি বা হাড় সন্ধি ধকল সইতে না পারা৷ এমনটাই বলছে ড. উইটৎজের অভিজ্ঞতা৷

তিনি বলেন, মানুষ সব সময় ভাবে যে পেশাদার খেলোয়াড়রা এতটা প্রশিক্ষিত বলেই তাদের পরীক্ষায় কোনো দুর্বলতা ধরা পড়ে না৷ কিন্তু বাস্কেটবল বা ফুটবলের মতো খেলায় দুর্বলতা থাকে গভীরে৷ উদাহরণস্বরূপ, গুরুত্বপূর্ণ পেশি দুর্বল হওয়া, হাড় সন্ধি চাপ নিতে না পারা, বলেন ডেউইটৎজ৷ আমাকে সেটা সব সময় অবাক করে, বলেন তিনি৷

কিন্তু মোশন অ্যানালিসিস বা গতি অধ্যয়ন থেকে সমস্যার কোনো সুরাহা হয় না৷ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে কাজে লাগবে লাইপৎজিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেকানিকস ল্যাবের প্রধান প্রফেসর মারেন ভিট বলেন, এটা সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ সাহায্য দেবে৷ এআই পরীক্ষার ফলাফল ডাক্তার, ফিজিওথেরাপিস্ট ও রোগীদের জানাবে ব্যথা কোথা থেকে আসছে ও কীভাবে তার সুরাহা হবে৷

আগামী কয়েক বছরে, হাউকে ডেউইটৎজ আশা করেন যে ল্যাবের পাশাপাশি, স্বাভাবিক প্রশিক্ষণের পরিবেশে বা খেলার মাঠেই যাতে খেলোয়াড়রা নিজেদের পরীক্ষা করতে পারেন৷ তিনি বোঝান, তাতে আরো ব্যক্তিভিত্তিক পরীক্ষা সম্ভব হবে ও ব্যথার কেন্দ্রভিত্তিকও৷ টার্গেট ভিত্তিক প্রশিক্ষণ তরুণ খেলোয়াড়ের ওপর দুঘন্টারও বেশি সময় ধরে পরীক্ষা চালিয়ে আশার আলো দেখছেন ডেউইটৎজ৷

তার বক্তব্য, যে কোনো ফিজিওথেরাপিস্ট বা স্পোর্টস বিজ্ঞানী এটা করতে পারেন৷ তার জন্য পেছনে বড় ফুটবল ক্লাব বা কয়েক মিলিয়নের সম্পদ থাকার প্রয়োজন নেই৷

আমাদের ফেসবুক পেইজ