কেরানীগঞ্জ ‘গণহত্যা দিবস’ পালন


Buriganga News প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২, ২০২৩, ১:১২ অপরাহ্ন /
কেরানীগঞ্জ ‘গণহত্যা দিবস’ পালন

বুড়িগঙ্গা নিউজ ডেস্ক : ১৯৭১ সালের ২ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মানুষের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করে এক নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চালায়। এই ঘটনায় পাঁচ সহস্রাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু নিহত হন। তাই এই দিনকে কেরানীগঞ্জবাসী গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে। দিবসটি উপলক্ষে শোকর‌্যালি, কালোব্যাজ ধারণ, কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও মিলাদ-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২ এপ্রিল) সকালে মনুব্যাপারীর ঢালে নির্মিত শহীদ বেদীতে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ম.ই. মামুন। এসময় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মাহমুদ আলম, সাধারণ সম্পাদক ডা. এইচএম মো. সেলিম, আগানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর আসাদ হোসেন টিটু, বাস্তা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিলানী মিয়া, বাস্তা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাস্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশকর আলী, তেঘরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহর চাঁন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এবং কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালন করেন।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নাম দিয়ে রাজধানী ঢাকার ঘুমন্ত মানুষের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। জীবন বাঁচাতে বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে কেরানীগঞ্জে বিভিন্ন গ্রামে আশ্রয় নিতে থাকেন তারা। ২ এপ্রিল ফজরের নামাজের পর মিটফোড হাসপাতালের ছাদ, সদরঘাট, বাদামতলী ও সোয়ারীঘাট থেকে কেরানীগঞ্জের ওপর গুলি, মটারশেল নিক্ষেপ করতে থাকে পাকিস্তানি বাহিনী। এতে জিনজিরা, আগানগর, শুভাঢ্যা, ও কালিন্দী ইউনিয়নের লোকজন এবং এসব এলাকায় ঢাকা থেকে এসে আশ্রয় নেওয়া মানুষ জীবন বাঁচাতে আবার চারদিকে ছোটাছুটি করতে থাকে। তারা কেরানীগঞ্জের অন্যান্য নিরাপদ এলাকায় একটু আশ্রয় নেওয়ার জন্য দৌড়াতে থাকে। কিন্তু, এসব মানুষেরা জানতো না যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের চারদিক থেকে আক্রমণ চালাচ্ছে। ফলে, প্রাণভয়ে রাস্তা, মেঠোপথ ও ফসলের মাঠ দিয়ে যারা দৌঁড়ে পালাতে ছিল তাদেরকে পাকিস্তানি বাহিনী ধরে পাখির মতো নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। অনেকে ঘরের ভেতর আবার অনেকে নিচু জায়গায় প্রাণভয়ে আশ্রয় নিয়েও শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেননি।

এছাড়া পাকিস্তানি বাহিনী বিভিন্ন গ্রামে প্রবেশ করে আশ্রয় নেওয়া মানুষসহ এলাকার মানুষদেরকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এসময় মানুষের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

আমাদের ফেসবুক পেইজ